শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি ও আব্দুল মঈন খানের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর শান্তিগঞ্জে পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ২২টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শান্তিগঞ্জে মহামায়া যুব সংঘের উদ্যোগে গুরুজন সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সুনামগঞ্জে তরুণদের নিয়ে FIVDB-RAISE প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভা অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে বিএনপি নেতাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান প্রদান শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ইশরাক পবিত্র ওমরাহ পালনে দোয়া প্রার্থী  জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন 

শান্তিগঞ্জে এসেড হবিগঞ্জের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী কৃষি মেলা ২০২৬

শান্তিগঞ্জে এসেড হবিগঞ্জের উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী কৃষি মেলা ২০২৬

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধ :

হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু সহিষ্ণু ও আগাম উচ্চফলনশীল ধানের জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি মেলার আয়োজন

সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা এবং স্বল্প জীবনকালীন, আগাম ও উচ্চফলনশীল ধানের জাতের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী কৃষি মেলা ২০২৬।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এসেড হবিগঞ্জ কর্তৃক তিন বছর মেয়াদি বাস্তবায়নাধীন এনরিচ প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত এ কৃষি মেলা ৫ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মোট ২০টি গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি শেয়ার দ্যা প্লানেট এসোসিয়েশন, জাপান-এর মাধ্যমে জাপান ফান্ড ফর গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট (জেএফজিই)-এর আর্থিক সহযোগিতায় এসেড হবিগঞ্জ বাস্তবায়ন করছে।

কৃষি মেলার প্রধান লক্ষ্য হলো হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রস্তুত করা এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত স্বল্প জীবনকালীন, আগাম ও জলবায়ু সহিষ্ণু উচ্চফলনশীল বিভিন্ন ধানের জাত সম্পর্কে কৃষকদের অবহিত করা।

একই সঙ্গে এসব জাতের ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে এর প্রচার ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদনকে আরও টেকসই, উৎপাদনশীল ও ঝুঁকিসহিষ্ণু করে তোলাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কৃষি মেলার প্রথম দিনে, ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, জয়কলস ইউনিয়নের ডুংরিয়া বাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং আস্তমা পয়েন্টে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুটি পৃথক কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় বক্তব্য রাখেন এসেড হবিগঞ্জের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নির্মল কুমার বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার সাজ্জাদুর রহমান। এছাড়াও ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট জামিল হক, দিপলু সূত্রধর, জাকারিয়া এবং মোসাদ্দিক হোসেন সাকিবসহ প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি, আগাম ও উচ্চফলনশীল ধানের জাতের বীজ প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি এসব ধানের জাতের বৈশিষ্ট্য, চাষাবাদ পদ্ধতি, বীজ ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন সম্ভাবনা এবং হাওরের আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম জাতের গুরুত্ব সম্পর্কে কৃষকদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়।

মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষকরা বিভিন্ন ধানের জাত, চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলন, বীজ সংরক্ষণ ও কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে নানা প্রশ্ন করেন। প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। পাশাপাশি কৃষকদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

কৃষি মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় অভিজ্ঞ বাউল শিল্পীদের অংশগ্রহণে কৃষি ও কৃষি প্রযুক্তিবিষয়ক তথ্যসমৃদ্ধ বাউল সংগীত পরিবেশন। সহজ-সরল ভাষা ও লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে কৃষি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরায় কৃষক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়।

বিশেষ করে কৃষি তথ্য, জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি এবং আগাম জাতের ধান চাষের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে এ ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

১০ দিনব্যাপী এ আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে আরও ১৮টি কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

৬ অক্টোবর: পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও পয়েন্ট ও বীরগাঁও বাজার।
৭ অক্টোবর: পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসি পয়েন্ট ও চিকারকান্দি বাজার।
৮ অক্টোবর: পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের মাহমুদপুর পয়েন্ট ও দামোদরতপি পয়েন্ট।
৯ অক্টোবর: শিমুলবাঁক ইউনিয়নের জয়নগর বাজার ও জয়নগর পয়েন্ট।
১০ অক্টোবর: শিমুলবাঁক ইউনিয়নের জ্বীবধারা পয়েন্ট ও কাঠইর পয়েন্ট।
১১ অক্টোবর: পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের পাগলা বাজার ও ব্রাহ্মণগাঁও পয়েন্ট।
১২ অক্টোবর: পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের হোসেনপুর পয়েন্ট ও দেববাড়ি পয়েন্ট।
১৩ অক্টোবর: পাথারিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী বাজার ও গণিগঞ্জ বাজার।
১৪ অক্টোবর: পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া বাজার ও বড়কাপন বাজার।

প্রতিদিন প্রথম পর্বের কৃষি মেলা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং দ্বিতীয় পর্ব দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা, আকস্মিক বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং স্বল্প জীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল ধানের জাতের সম্প্রসারণে এ কৃষি মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে উপযোগী ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও আয় বৃদ্ধির পথও সুগম হবে।

হাওরাঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষকদের কাছে সরাসরি কৃষি তথ্য পৌঁছে দেওয়া, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে এ কৃষি মেলা একটি কার্যকর জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

© All rights reserved © 2017-2026 Jagannathpurnews.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com